যেভাবে বদলে গিয়ে 'ম্যাচ উইনার' আরিফুল

পরিবর্তন প্রতিবেদক | clock৭:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১,২০১৭

যেভাবে বদলে গিয়ে 'ম্যাচ উইনার' আরিফুল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসরে এখন পর্যন্ত দেশি নতুন খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন আরিফুল হক। কিন্তু আসলেই কি তিনি নতুন? ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম পারফর্মার। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগ কি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ সব ধরনের ক্রিকেটেই দারুণ খেলেন। চাপে ভালো খেলাটা অন্যতম সেরা অভ্যাস। তবে ততটা ধারাবাহিক নন। কিন্তু এবারের বিপিএল তার ব্যাটিংয়ে নিয়ে এসেছে দারুণ ধারাবাহিকতা। খেলছেন ম্যাচ জেতানো সব ইনিংস। অনেক পরিণতই মনে হচ্ছে তাকে। নিজের এমন পরিবর্তনের জন্য আরিফুল কিন্তু কৃতিত্ব দিচ্ছেন শ্রীলঙ্কান কিংদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনেকে। খুলনা টাইটান্সের কোচই নাকি বদলে দিয়েছেন আরিফুলের মনোজগৎ।


মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার এক রোমাঞ্চকর-শাসরুদ্ধকর ম্যাচ উপহার দিয়েছেন আরিফুল। খেলার শেষভাগে এসে সবাইকে ছাপিয়ে তিনিই মূল নায়ক। এর আগে দুটি ম্যাচে খুলনার জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন। এদিন হাতের মুঠি থেকে প্রায় বের হয়ে যাওয়া জয় ছিনিয়ে আনলেন প্রতিপক্ষের হাত থেকে। পরিপূর্ণ নায়ক হিসেবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার তারই।

২৫ বছর বয়স। কিন্তু আরিফুলকে যারা সেভাবে চেনেন না তাদের জন্য এই ব্যাটসম্যান বিপিএলের বিস্ময় হয়েই এসেছেন। এমন ধারাবাহিক আরিফুলকে চিনেন না অনেকেই। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে তার ১৯ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় হার না মানা ৪৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসই বুঝিয়ে গেলো, আসলেই অনেক বদলে গেছেন আরিফুল। আর সেই পরিবর্তনের পেছনের কারণটা নিজেই জানালেন সংবাদ সম্মেলনে, ‘আগে আমার ব্যালান্সে সমস্যা ছিল হয়তো। এবার মাহেলা আমার ব্যালান্স নিয়ে কাজ করেছেন। আমার বডিওয়েট হয়তো পেছনে যেত মারার সময়। এবার সেই জিনিসটি নিয়ে কাজ করেছেন মাহেলা। সেটায় হয়তো উপকার হয়েছে।’

এদিন আরিফুল যখন উইকেটে নামেন খুলনা তখন ৬ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায়। মানে ৮ নম্বরে সুযোগ মিলেছে। টার্গেট ১৬৭। জয় থেকে ৫৩ রান দূরে। এসেই দেখলেন শেষ ভরসা কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের সাজঘরে ফেরা। কিছুক্ষণের মধ্যে শফিউল ইসলামও নেই। ৮ উইকেট হারানো খুলনা তখন পরাজয়ই দেখছিল খুব কাছ থেকে। কিন্তু বিশ্বাস হারাননি আরিফুল। তার ছিল ভিন্ন ভাবনা। খেললেন বীরোচিত এক ইনিংস। দাপুটে ব্যাটিংয়ে জয় কেড়ে নিয়েই মাঠ ছাড়লেন এ ব্যাটসম্যান, ‘আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি শেষ পর্যন্ত টানতে পারলে আমরা জিতব। আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। আরেকপাশে জুনাইদ ভাই ছিলেন, উনি সাহায্য করেছেন। আরেকটা ব্যাপার ছিল, ফিল্ডার যখন অনেক বাইরে থাকে, মিস হিট হলেও দুই রান হওয়ার সুযোগ থাকে। এজন্য আমাদের কম্বিনেশনটাও সুন্দর হয়েছে।’

হোসেন আলীর করা ১৮তম ওভারে ১৮ রান নিয়েছেন আরিফুল। একটি ছক্কা, দুই চার ওই ওভারে। জয়ের আশা তাতেই জেগে ওঠে বেশি। তারপরও শেষ ওভারেও প্রয়োজন ছিলেন ৯ রানের। কিন্তু প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়েই জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তার এমন ব্যাটিংয়ে ফুটে ওঠে কতোটা নির্ভার ছিলেন তিনি। এমনকি শেষ ওভারেও। কিংবা তারো আগে। স্নায়ুচাপ সামলেছেন দারুণভাবে। আরিফুলের ভাষায়, ‘ব্যাটিংয়ের সময় দু-একটি শট ব্যাটের মাঝখানে লাগলে এমনিই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আমার একটু সময় লাগে। ৫-৬-৭ বল যদি থাকতে পারি, রান করি, তাহলে একটু নির্ভার হই। এর আগে একটি আলগা থাকি।’

আত্মবিশ্বাসটা আরিফুল পেয়েছেন জয় থেকেই। টানা চার ম্যাচ অপরাজিত তারা। আগের ম্যাচগুলোতেও চমৎকার ব্যাট করেছেন। তবে নিজের ব্যাটিংয়ের সাথে কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের জয়ের ধারায় থাকা বাড়তি টনিক হিসেবে কাজ করছে আরিফুলের মনে, ‘এভাবে মাচ জিতলে আসলে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। আবার এরকম পরিস্থিতে পড়লে মনে পড়ে যে এভাবে ম্যাচ জিতিয়েছিলাম। এসব অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এভাবে ম্যাচ জেতাতে পারলে আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়ে।’ ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচে নিয়মিত পারফরম্যান্সও বিশ্বাস জুগিয়েছে তাকে, ‘জাতীয় লিগ আর এটা আলাদা খেলা। কিন্তু আসলে পার্থক্য তেমন কিছু না। রান টানা করতে থাকলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।’

কোচের কথা তো বলেছেনই। পরে আরিফুল আরো জানালেন, আসলে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দেওয়া আস্থা ও নির্ভরতা তার ভেতরে কাজ করছে আলাদা ভাবে। সেই অবদানের কথা জানিয়ে মাহমুদউল্লাহর ভাষায় আরিফুলের উচ্চারণ, ‘রিয়াদ ভাই অনেক সমর্থন দিচ্ছেন। বলেছেন যে শেষ মৌসুমে অনেক খেলা শেষ করে এসেছিস। অপরাজিত ছিলি বেশি, এবারও চিন্তা করবি অপরাজিত থাকার। এটা আমাকে সাহায্য করছে।’

আরটি/ক্যাচ


আলোচিত সংবাদ


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ