হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, চাঁদপুর

বুরহানুর রহমান | clock১০:৪১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫,২০১৭

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, চাঁদপুর

চাঁদপুরের সম্ভবত সব চাইতে পুরনো মসজিদ হচ্ছে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ। আমরা আমাদের একদিনের ভ্রমণ পরিকল্পনায় গিয়েছিলাম চাঁদপুর শহর দেখার জন্য। সেখানে গিয়ে দেখে এলাম হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ। অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী। শুধু এই মসজিদ দেখতেই চাঁদপুর যাওয়া যায়। তবে আমাদের ফড়িং (আমাদের একজন সফর সঙ্গিনী) ক্ষেপে বোম হয়ে গেল। কারণ মসজিদের ভেতরে তাকে ঢুকতে দেয়নি। সে আর তার সহধর্মী ইন্ডিয়াতে বেশকিছু মসজিদ ঘুরে বেড়িয়েছে। সেখানে মেয়েদের মসজিদে প্রবেশ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু আমাদের দেশে আছে। যাই হোক আমরা মসজিদ সম্পর্কে বলি।


হাজী আহমদ আলী পাটোয়ারী (রঃ) হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক জামে মসজিদের ওয়াকীফ। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম মোতওয়াল্লী। মসজিদের প্রতিষ্ঠাকাল ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ। সর্বমোট ২৮,৪০৫ বর্গফুট আয়তনের এই বিশাল মসজিদটির রয়েছে ১৮৮ ফুট (প্রায় ২০ তালা বিল্ডিঙের উচ্চতা) উচ্চতার কারুকার্য খচিত একটি মিনার।

এ মিনারে কোন রড ব্যাবহার হয়নি (তখন রডের ব্যাবহার ছিল না)। শুধু চুন-সুরকি আর ইট দিয়ে নির্মিত। উদ্যোক্তা মহোদয় এ মসজিদ নির্মাণের জন্য সে আমলে ইটভাটা নির্মাণ করেছিলেন।

মসজিদটি আহম্মদ আলী পাটওয়ারী ওয়াক্ফ এস্টেটের তত্তাবধায়নে চলে। ঐতিহাসিক এই মসজিদের সাথেই আলীয়া মাদ্রাসা, হাফেজিয়া মাদরাসা, নূরানী মাদরাসা, ফোরকানীয়া মাদরাসা, ইসলামীয়া পাঠাগার, বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং দুঃস্থ-অসহায়দের সহযোগিতা প্রদানসহ ধর্মীয় কার্যাবলী চালু রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক মহোদয় বললেন এ মসজিদে একসাথে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লী নামাজ পরতে পারেন। বর্তমানে এটি দেশের ষষ্ট বৃহৎ মসজিদ।

বিভিন্ন উপলক্ষে মুসল্লিদের আধিক্যে প্রায়শই এখানে দেশের বৃহৎ নামাজের জামায়াত হয়ে যায়। উদ্যোক্তা মহদয়ের আদর্শ এখনও বেশ শক্ত ভাবেই অনুসরণ করা হয়। কর্তৃপক্ষ নামাজ আদায়ে সর্বোত্তম সুবিধা নিশ্চিত করা সহ সকল ধর্মীয় ব্যাবসা থেকে এখন পর্যন্ত বিরত আছেন।

যেভাবে যাবেন :

যেতে হলে চট্রগ্রাম/ঢাকা/কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর মহাসড়কে হাজীগঞ্জ নামতে হবে। চাঁদপুর জেলা সদর থেকে বাস/ সিএনজি যোগে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে যাওয়া যায়।

এছাড়া ঢাকার সদরঘাট থেকে চাঁদপুরের লঞ্চে চরে, চাঁদপুর শহরে গিয়ে সেখানকার লোকাল বাহনে চড়ে হবিগঞ্জে চলে যেতে পারবেন।

তথ্য ও ছবি : বুরহানুর রহমান

এআর/


আলোচিত সংবাদ


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ